Tuesday, 10 March 2020

মানুষটা এবং আমি



মানুষটা এবং আমি
- নাজিয়া ইসলাম

রেল লাইনের ঠিক মাঝখানটায় দাঁড়িয়ে আছি, ট্রেনের অপেক্ষায়। অনেক ভেবে চিন্তে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর বাঁচবোনা। সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিয়েছি পাক্কা ছয় ঘন্টা। ছয়ঘন্টায় অনেক কিছু ভেবেছি, যেমন, আমি মরে গেলে কারো কোন লোকসান হবেনা, অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছি পড়া শেষ হতে আরো অনেক দেরি, আমার বড় ভাই আছে, ফ্যামিলির অবস্থা ভালো, কাজেই আমার উপর এমন কোন চাপ নেই যে আমার উপার্জন করে কাওকে খাওয়াতে হবে। বাবা মা কিছুদিন দুঃখে কান্নাকাটি করবে কয়েকদিন পর ভুলে যাবে। সবচেয়ে সহজে যে শোক ভোলা যায় তা হল মৃত্যু শোক। কথাটা নিয়ে অনেক ভেবেছি আর বুঝতে পেরেছি যে একদম খাঁটি কথা, আসলেই তো একটা মানুষ বেঁচে নেই এমন না সে চোখের সামনে ঘুরঘুর করছে তো তার অস্তিত্ব ভুলে যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। আত্বীয় স্বজনরা একবেলা মেকী কাঁদবেন তাদের নিয়ে আমার একটুও মাথা ব্যাথা নেই। বাকি রইলো আমার কিছু স্বপ্ন, ধুর কিসের স্বপ্ন, যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম সেই যখন পর হয়ে গেল তখন তাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নের আমি খ্যাতা বালিশ সব পুড়ি।

একি! হঠাৎ করেই রেল লাইনটা কাঁপা শুরু করল, তার মানে নিশ্চিত ট্রেন আসছে, দূর থেকে চলমান আলো দেখা যাচ্ছে। আমার খুব পানির পিপাসা পাচ্ছে, বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছি আর বারবার ঢোক গিলছি। ট্রেন ঝমঝমিয়ে সামনে এগিয়ে আসছে। এভাবে পানির তৃষ্ণা নিয়ে আত্মহত্যা করাটা কি ঠিক হবে ভাবতেই লাইন থেকে দ্রুত সড়ে দাড়ালাম, আমার পাশ দিয়ে বিকট শব্দে ট্রেন টা ছুটে চলছে। ধুর আমি এত ভীতু কেন! পরের ট্রেন যে কখন কে জানে!

রেল কর্তৃপক্ষের শ্রাদ্ধ করতে করতে হাঁটছি কোথাও প্লাটফর্মটা একটু নিচু কিনা সে খোঁজে, সব উল্লুকের দল এত ঊচু করে প্লাটফর্ম বানানোর মানে কি আমরা মানুষ নাকি ক্যাঙ্গারু! আর বানালিই যখন তখন সাথে কয়েকটা মই তো রাখবি নাকি! মই ছাড়া এখানে উঠার আর ঊপায় নেই। এইমুহুর্তে কেউ একজন হাত এগিয়ে দিল, “উঠে আসুন”। আমি কপাল কুচকে উপরে তাকালাম মানুষটার দিকে, ফর্মাল শার্ট, প্যান্ট, গলায় ঢিলে করে বাধা টাই ঝুলছে, বয়স সাতাশ আটাশ হবে। ভাবলাম একটু পরে তো মারাই যাব এখন অপরিচিত কারো হাত ধরলেই কি আর না ধরলেই কি! আর কতক্ষণই বা এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যায়! হাতটা ধরে উঠে এলাম।
-থ্যাঙ্কস!
-ইউ ওয়েলকাম।
-এবার হাতটা ছাড়ুন!
-ওহ সরি।
বেঞ্চগুলোর দিকে এগিয়ে গেলাম, কোমড়টা ব্যাথা হয়ে গেছে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে। স্টেশনের বেঞ্চগুলো সবসময় পরিস্কার থাকে কারন এরা সবসময় ইউজের নিচে থাকে। ধপ করে বসে পরলাম একটায়। স্টেশন ফাঁকা ফাঁকা লোকজন বেশি নেই এই রাত সাড়ে বারটায় লোকজন বেশি থাকারও কথা না। কিছু লোক বসে ঝিমুচ্ছে কিছু নিচে শুয়ে আছে এরা টোকাই হবে হয়তো, কয়েকজন হাটাহাটি করছে। আর মানুষটা বারবার ঘড়ি দেখছে। সত্যি খুব পানির পিপাসা পেয়েছে। আমার কাছে একটা টাকাও নেই পার্স রাগে গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছি। মানুষটাকে ডেকে বললাম, “এই যে শুনছেন? একটু পানি খাওয়াতে পারবেন?” দোকানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে বললাম, “পেলে ফ্রীজেরটা আনবেন প্লীজ”। 
মানুষটা বোতল এগিয়ে দিয়ে বসতে বসতে বলল,
-সুইসাইড?
-হ্যা।
-তবে সাহসে কুলাচ্ছে না?
-সাহসে কুলাবেনা কেন! মানে কি! তো এ পর্যন্ত কিভাবে আসলাম!
-আমি খেয়াল করছিলাম আপনাকে, দেখলাম ট্রেন এগিয়ে আসার সাথে সাথেই ধরফরিয়ে লাইন থেকে সরে এলেন!
-খুব পানির তৃষ্ণা পেয়েছিল, আর পানির তৃষ্ণা নিয়ে এভাবে মরা ঠিক না।
-আত্মহত্যা করাও ঠিক না। যারা আত্মহত্যা করে তারা কখনো বেহেশতে যায়না।
-দেখুন আমাকে এখন হাদীস শোনাবেননা। অন্য কাউকে গিয়ে শোনান।
-অন্য কাকে শোনাবো আর কেউতো মরার জন্য স্টেশনে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেনি। আর আমি আপনাকে পানি খাইয়ে আপনার উপর একটা দয়াও করেছি এখন আর কিছু করার নেই আপনাকেই আমার কথা শুনতে হবে, আর হ্যাঁ হাত ধরে আপনাকে প্লাটফর্মেও উঠিয়েছি।
-ওহ তাই! এই দশ টাকার পানির বোতলের জন্য আমার এখন আপনার প্যানপ্যানানি শুনতে হবে! আমি এখনি আপনার টাকা দিয়ে দিচ্ছি আর উপরে কি আমি উঠাতে বলেছিলাম? একক্ষুনি হাত ধরে আমাকে নিচে নামিয়ে দিন, পরেরবার আমি একা উঠবো।
-টাকা কিভাবে দেবেন! আপনার সাথে তো ব্যাগ পার্স কিছুই দেখছিনা। নাকি অন্য কোথাও রেখেছেন, মেয়েদের অবশ্য আবার টাকা রাখার জায়গার অভাব নেই। আর পানির বোতল এটা পনের টাকা, দশটাকার যুগ অনেক আগেই গেছে ম্যাডাম।
মানুষটার দিকে একটা অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে আমি পাশের বেঞ্চে গিয়ে বসলাম।
-কি ম্যাডাম টাকাটা দিলেননা!
-নেই, দেখতেই তো পাচ্ছেন!
-তাহলে যে পর্যন্ত আমার ট্রেন না আসে সে পর্যন্ত আমার প্যানপ্যানানি শুনতে হবে।
-আচ্ছা মুশকিলে পরলাম তো! এই শোনেন আপনাকে যদি বোতলে পানি ভরে দিই তাহলে কি আপনি দয়া করে স্টপ যাবেন?
-পানি দিয়ে আমি কি করবো? আমার তো মরতে এসে গলা শুকায়নি।
-আমি জানি না পানি দিয়ে কি করবেন। আমি আপনার পানি নিয়েছি এখন পানি দিয়ে তা শোধ করবো। আর আপনি একটা কথাও বলবেননা।
হন্তদন্ত হয়ে আমি পানি খুজছি, স্টেশন ছাউনির বাইরেই একটা টিউবওয়েল পেয়ে গেলাম। পানি ভরে এনে বোতল তার হতে দিলাম। আমার আঙ্গুলটা মুখের কাছে নিয়ে বুঝিয়ে দিলাম, এবার একদম চুপ!
তাকে চুপ করিয়ে আমি পূর্বস্থানে ফিরে এসে বসলাম। তখনই উশানের কথা মনে পরল। বজ্জাতটা কিভাবে পারলো আমার সাথে এরকম করতে! কত ভালোবেসেছিলাম ছেলেটাকে অথচ সব মিথ্যে করে দিয়ে সে আরেকজনের সাথে প্রেম করছে, আমার সাথে ডাবল গেম খেলে যাচ্ছে! ভাগ্যিস ফুচকার অর্ডার দিতে যাবার সময় টেবিলের উপর রাখা ফোনটা নিতে ভুলে গিয়েছিন। যাবার সাথে সাথে টুট টুট শব্দে ম্যাসেজ বেজে উঠলো, সেটা পড়ে ইনবক্সে ঢুকতেই সব সত্য বেরিয়ে এল। সে মুহুর্তে মনে হচ্ছিল মশলা দিয়ে মেখে খাবিশটাকে ওভেনে ঢুকিয়ে ফ্রাই করে ফেলি সাথে ওই পেত্নীটাকেও, যে আমার উশানকে কেড়ে নিল। অবশ্য মেয়েটার কি দোষ মেয়েটাও হয়ত জানেনা খাবিশটা কি করছে। মেয়েটাকে ফোন করে সব জানানো উচিত ছিল, কিন্তু আসার সময় উশান এমন নাটক শুরু করল যে সব ভুলে গেলাম। “মাফ করে দাও এমন আর হবেনা”। মাফ করে দিব! অতোই সোজা! ভালবাসি বলে এতোটাই সস্তা হয়ে গেছি! কোন মাফ নেই, তোর মত মেয়েচাটা স্বভাবের ছেলেদের কোন মাফ নেই।
-কি ব্যাপার একা একা কি বিড়বিড় করছেন?
-আমি কি বিড়বিড় করছি তাতে আপনার কি!
-আমি তো একা চুপচাপই বসে ছিলাম, দেখলাম আপনি একাই কথা বলছেন তাই ভাবলাম দুজনে মিলে কথা বলি আমারও কথা বলার মানুষ হল আপনারও একজন শোনার মানুষ হল।
-আপনি যে কথা বেশি বলেন জানেন?
-আপনি আমার থেকেও বেশি বলেন, এইযে একটু আগে একা একাই কথা বলছিলেন। আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে দুনিয়ার সব মানুষের উপর আপনি বিরক্ত। কি হয়েছে আপনার বলা যাবে?
-না।
-নামটা বলা যাবে?
-না।
-আরে ম্যাডাম কিছু তো বলা যাবে নাকি!
-আমার নাম জেনে আপনি কি করবেন?!
-কি করবো মানে! আপনি এখানে আসছেন সুইসাইড করতে, পারলেননা যে লোকজ়ন এটা দেখলনা। উল্টা তারা আপনাকে আমার সাথে দেখল আমি আপনাকে পানি কিনে খাওয়ালাম, আপনি চেঁচিয়ে আমার সাথে ঝগড়া করলেন। এখন আপনি যদি সুইসাইড করেন পুলিশ কেস হবে মাস্ট। লোকজন তো তখন আমাকে ধরবে, বলবে আমার সাথে ক্যাঁচাল বাধিয়েই ঝাঁপ দিয়েছেন। ফাঁসলাম তো আমি তাইনা! এখন এই ফাঁস থেকে বের হবার জন্য আপনার কিছু ইনফরমেশন তো আমার জানা থাকা দরকার নাকি! এখন নামটা বলে আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুন প্লিজ।
-অনন্যা
-আল হামদুলিল্লাহ। এবার কি হয়েছে বলেন তো দেখি, এই ঝাপাঝাপির কারন কি?
-বজ্জাতটার জন্য।
-কোন বজ্জাতটার জন্য!
-আপনি চিনবেননা। ভালোবাসতাম ওকে আমি।
-বাসতাম, তারমানে এখন আর বাসেননা।
-না! কত্ত বড় সাহস খবিশটা আমার সাথে ডাবল গেম খেলে! কত ভালবাসছিলাম আর ও কি করল!
-হা হা হা হাসালেন ম্যাডাম। এইদিনে কেউ এই সামান্য কারণে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয় নাকি! বরং ট্রেনে আরেকজনের কাঁধে মাথা রেখে ঘুরতে যায়। হা হা হা…
-হাসবেননা। আপনারা ছেলেরা কখনোই বুঝবেননা মেয়েদের কষ্ট, তার ভালোবাসা হারানোর কষ্ট।
-তাহলে এই ছেলের জন্যই এখন কেন কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিচ্ছেন। আপনি না থাকলে ওর কি কিছু হবে! সে তখন আরেকটা জুটিয়ে তার সাথে ডাবল গেম খেলবে। অথচ আপনি কত কিছু হারাবেন খেয়াল করেছেন? তার থেকে এককাজ করেন খবিশটাকে একটা শিক্ষা দেন, তাও যদি না পারেন তাহলে অন্তত নিজের মনের ঝালটা মেটান। যেমন আমি মেটাচ্ছি।
-মানে?
-মানে, এখানে ট্রেনের অপেক্ষায় আছি, বন্ধুরা মিলে কক্সবাজার যাচ্ছি, পার্টি করতে, পার্টির কারণ আমি নব নব ছ্যাঁকা খেয়েছি, তাও আবার যে সে ছ্যাঁকা না পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ছ্যাঁকা। সাত বছর প্রেম করার পর আমার প্রেমিকা আমারই বন্ধুর সাথে পালিয়ে বিয়ে করেছে। হাস্যকর না ঘটনাটা! ভাবলে সত্যি হাসি পায়, কিন্তু কষ্টও পেয়েছি অনেক। এখন এই কষ্ট যদি আমি মনের ভিতরে পুষিয়ে লালন পালন শুরু করি তাহলে তো সে মনের সুখে বাড়তেই থাকবে তাইনা! তাই বন্ধুদের বললাম চল ঘুরে আসি আর ওরা তো চান্সেই থাকে।

আমি টিকেট কয়টা কেটেছি জানেন? তিনটা। একটা আমার, একটা আমার প্রাক্তন প্রেমিকার, আরেকটা তার হাজবেন্ড মানে আমার বন্ধুর জন্য। আরে সব বন্ধুরা মিলে যাচ্ছি ওকে কিভাবে না বলে যাই। অফিস থেকে বের হয়ে ফোন দিলাম, বললাম চল ঘুরে আসি সব বন্ধুরা মিলে যাচ্ছি, সাথে মীরাকেও নিতে বললাম, নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে হানিমুনটাও হয়ে যাবে, টিকেট নয় আমিই কেটে দিলাম। বন্ধু আমার শুকনো মুখে বলল, দেখি। আমি জানি ওরা আসবেনা, তবু মনের ঝাল মেটানোর জন্য তাদের ফোন দেয়া, তিনটা টিকেট কাটা।

একটানা কথা গুলো বলে নিচের দিকে তাকালো সে আমি তার মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।
-এক কাজ করেননা কেন, আমার কাছে তো এক্সট্রা টিকেট আছেই, আপনি চলুন আমাদের সাথে। আমার দু তিন ফ্রেন্ড তাদের ওয়াফ নিয়েই আসছে তারাও আমাদের ক্লাসমেটই ছিল, আপনার সমস্যা হবার কথা না। তাছাড়া এভাবে দেখবেন শুধু কষ্টই পাচ্ছেন। আর আশা করি এতক্ষনে ঝাঁপ দেয়ার প্ল্যানটা বাদ দিয়েছেন, নাকি?!
-আপনি আসলেই বেশি কথা বলেন! আপনার ফোনটা দেয়া যাবে? খাবিশটাকে ফোন করবো।
-শিওর।
লম্বা একটা দম নিয়ে ফোন দিচ্ছি খাবিশটাকে,
-হ্যালো
-অনন্যা
-হ্যা কোথায় তুমি? আমি কতবার ফোন দিয়ে যাচ্ছি।
- আমি স্টেশনে আত্মহত্যা করতে আসছি
-এরকম পাগলামি করেনা জান, আমি তো মাফ চাইসি এইরকম ভুল আর হবেনা
-অ্যাই চুপ! আমাকে জান টান ডাকবিনা সাবধান! আমি তোর কিছুই লাগিনা, না জান, না কলিজা না ফ্যাপড়া শালা ইতর খাবিশ বদমাইশ। আই তুই এক্ষুণি কনফারেন্সে ওই ডাইনী টারে ফোন দিবি, কি যেন নাম ওহ হুম প্রিতী, তুই এক্ষনি তোর পেত্নী প্রিতী জ্বীনটারে ফোন দে আমি কথা বলবো আর তুই সব সত্য সত্য বলবি ওরে। এখন যদি ফোন না দিস তো এই যে পনের মিনিটের মধ্যে ট্রেন আসতেসে এমন ঝাঁপ দিব আমি যে মরবি তুই শালা। ফোন দে!
এখন খুব শান্তি শান্তি লাগছে অনেক শান্তি, মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ লাফাই। মানুষটা দেখি মিটিমিটি হাসছে,
-হাসির কি হল! কমেডি চলছে এখানে?!
-যাবেন কক্সবাজার?
-ওহ! এতক্ষনে খেয়াল হল বাসায় নিশ্চই কান্নাকাটি শুরু হয়ে গেছে। আমাকে একটা ট্যাক্সি ঠিক করে দিতে পারেন প্লিজ?
-সরি আমি পারবোনা, উপকারও করবো আবার ঝাড়িও খাবো!
-থাক পারতে হবেনা। আমি নিজেই পারবো। আসি বাই! 
-আরে শোনেন তো! বাসায় কিন্তু কান্নাকাটি এমনিতেও শুরু হয়ে গেছে, ভাবুন কাল কক্সবাজার থেকে হঠাত ফোন দিলে তারা কতটা সারপ্রাইজড হয়ে যাবে, আবার তা না করে যদি দু তিনদিন পরে এসে সামনে হাজির হন তাহলে তারা কতটা শক খাবে ভাবেন, শকে পাথর হয়ে যাবার মত অবস্থা। ব্যাপারটা কিন্তু মজার হবে!
-আপনার মাথায় কোন সমস্যা? আপনার মতলব কি বলুন তো!
-মতলব আবার কি হবে! দুজন একই দুঃখে দুঃখি তাই ভাবলাম…
-কি ভাবলেন? একটু লাইন মারি এই তো!
-এই রাতে একা যাওয়াটাও কিন্তু ঠিক হবেনা। ম্যাডাম ট্রেন চলে আসছে, এই ট্রেন বেশিক্ষণ দাড়াবেনা।
-আমি বাড়ি যাবো।
-ওকে ম্যাডাম অ্যজ ইউর উইশ। বাই দা ওয়ে নামটাই তো বলা হয়নি, আমি অর্ণব। আপনার নামের সাথে মিল আছে প্রথম দুই অক্ষর। যাই যাই ভালো থাকবেন।

স্টেশনের বাইরে এসে গা ছমছম করছে, ট্রেনের হুইসেলে আত্মাটা একদফা কেঁপে উঠল। ট্রেনটা ছেড়ে যাচ্ছে। আমি দৌড়াচ্ছি এত রাতে আমি একা বাড়ি ফিরতে পারবোনা। অর্ণবকে দেখতে পাচ্ছি ট্রেনের দরজাতেই দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দৌড়াতে দেখে ঝুকে হাত এগিয়ে দিল। এতো দেখছি দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে সিন চলছে! আমিও হাত বাড়িয়ে দিলাম, এভাবে না গেলে আর যাওয়া হবেনা।

Labels: , , ,

Sunday, 8 March 2020

মধ্য দুপুরের একটি ভেজা স্বপ্ন


মধ্য দুপুরের একটি ভেজা স্বপ্ন
-স্বপ্নীল মিহান

-সজীব ভাইয়া একটু শুনে যাবেন? প্রিয়তা কাঁচুমাচু হয়ে গ্রুপ আড্ডা থেকে ডাক দিল সজীবকে।
-হুম বল প্রিয়তা।
-ভাইয়া রুদ্র কোথায়? ওকে কিছুদিন হলো ক্যাম্পাসে দেখছিনা যে?
-আজ হঠাৎ ঐ ননসেন্স এর কথা তোমার মনে হল যে?
ভাইয়া সেদিনের ব্যাপারে সত্যি-ই আমি দুঃখিত…
-ও আছে ভালোই আছে! কিছু বলতে হবে?
-ওকে সরি বলবেন প্লিজ…
-হুম বলব, আর কিছু?
-আর…না আর কিছু না। কথা শেষে প্রিয়তা ওর ডিপার্টমেন্টে চলে গেল।

গত ৫দিন ধরে প্রিয়তা রুদ্রর জন্যে অপেক্ষা করছে অথচ রুদ্র দেখা মিলছেই না প্রিয়তার কেন জানি মনে হচ্ছে যেন তার আকাশটা মেঘে ঢাকা আর রুদ্র সেই আলোক ছটা, কিন্তু সেই আলোকছটা কেবল রুদ্র নামক সত্যিকারের সূর্যটার দেখা পেলেই আসবে। প্রিয়তা কি তাহলে রুদ্রর মায়াজালে পরেই গেল? কিন্তু কেন! কিছুদিন আগেও তো রুদ্রর নামটা শুনলে প্রিয়তির মাথা ভন ভন করত রাগে! মাথার রগ ফুলে যেত তবে ৫ দিন আগের সন্ধ্যাটা সব উলট পালট করে দিল। এখন শুধু রুদ্র আর রুদ্র এই নামটাই মাথার চারপাশে ঘুর ঘুর করছে। ৫ দিন আগের দিনটা এমন ছিল…

বিকেলে ভার্সিটির ক্যান্টিনে প্রিয়তা আর তার বান্ধবীরা বসে আড্ডা দিচ্ছিল। হঠাৎ রুদ্র এসে হাজির, মনে হচ্ছে দৌড়াতে দৌড়াতে এসেছে, এসেই হাঁপাচ্ছে। হাঁপাতে হাঁপাতেই রুদ্র বলল,
-প্রিয়তা কিছু কথা ছিল। প্রিয়তা শুনেও না শুনার ভান করল।
-প্রিয়তা তুমি কি তাসফিনকে বলেছ আমি তোমাকে খুব ডিস্টার্ব করি? এবার প্রিয়তা মুখ তুলে তাকাল রুদ্রর দিকে… রুদ্রর মুখের বা গাল বেয়ে রক্ত ঝরছে আর পুরো শরীর ঘামে ভিজে আছে, ফর্সা চেহারাটা লাল হয়ে আছে।
প্রিয়তা বন্ধুদের রেখে রুদ্রকে নিয়ে ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে গেল, পুরো ক্যান্টিন রুদ্রর এই অবস্থা দেখে গুঞ্জন শুরু করে দিয়েছে ততক্ষণে।


প্রিয়তা রুদ্রকে একটা ফার্মিসীতে নিয়ে গিয়ে ব্যান্ডেজ আর ঔষুধ নিয়ে দিল…
দুজনেই হাটছে, রুদ্র চুপসে রয়েছে এটা দেখে প্রিয়তাই আগে কথা বলল-
-কিভাবে হল এসব?  রুদ্র পাল্টা প্রশ্ন করল প্রিয়তাকে
-আমি কি সত্যি ই তোমাকে ডিস্টার্ব করি? এতটা অপছন্দের আমি তোমার কাছে?
- না মানে…
হাটতে হাটতে দুজনেই একটা পার্কে চলে এসেছে, প্রিয়তা দেখল রুদ্রর হাটতে কষ্ট হচ্ছে তাই ও বলল
-ঐ বেঞ্চটাতে বসবে?
কিছুক্ষণ নীরব থেকে রুদ্র বলা শুরু করল
-আমি সত্যি বুঝতে পারিনি তুমি তাসফিনকে ভালোবাস যদি এটা জানতাম তো কখনই তোমাদের মাঝে আসতাম না।
-কি বলছ তুমি এসব রুদ্র?
-আজকের পর এই রুদ্র ছেলেটা তোমাকে আর ডিস্টার্ব করবেনা প্রিয়তা…
তোমাকে আমার ভালোবাসতে হবেনা আমি একাই না হয় বেসে গেলাম, হয়ত তোমাকে আর প্রকাশ করবনা তবে আমার মনটা তো আর থেমে থাকবেনা সেটা কেবল আমি ই দেখব তোমাকে দেখানোর চেষ্টাও করবনা। তবে তোমাকে আমি আজ আমার একটা ইচ্ছের কথা বলব, না ভয় নেই পূরণ করতে হবেনা তুমি শুধু শুনে যাবে আমার বোকামী খাম খেয়ালি।
-প্রিয়তা!
-হুম?
-তুমি কী তোমার পুরো জীবন থেকে মাত্র একটি দিন আমাকে ধার দিবে? মাত্র এক দিন। সে দিনটা তুমি আর আমি ই থাকব আর কেউ না আর কারো চিহ্ন থাকবেনা আমাদের মস্তিস্কে। তুমি ভাববে আমাকে আর আমি তোমায়! সেই দিন খুব সকালে আমি তোমার বাড়ির নিচে দাড়িয়ে থাকব। তোমাকে নিতে আসব, আমার পরনে থাকবে আকাশী পাঞ্জাবী আর তুমি পড়বে হলুদ রঙের জামা! জানি তোমার আকাশী আর হলুদ  এই ২টাই চক্ষু বিষ, যেখানে আমি নিজেই তোমার অপছন্দের সেখানে আমার পছন্দ তোমার পছন্দ হবেনা সেটাই স্বাভাবিক।
প্রিয়তা কথা গুলি রুদ্রর দিকে তাকিয়ে থেকেই শুনছে আর রুদ্র সোজা চলে যাওয়া চিকন রাস্তাটার দিকে তাকিয়ে কথা গুলি বলছে… রুদ্রকে কেন জানি খুব আপন আপন মনে হচ্ছে প্রিয়তার, ওর কথা গুলো খুব মনযোগে শুনতে লাগলো সে। রুদ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলতে লাগল-
-প্রিয়তা তোমার কী নীল রঙের জামা আছে?
-হুম আছে, হঠাৎ প্রিয়তার জানতে ইচ্ছে হল যে রুদ্রর সবুজ পাঞ্জাবী আছে কিনা!
-রুদ্র তোমার সবুজ পাঞ্জাবী আছে?
-নাহ নেই, ইচ্ছে করেই কিনি নাহ। জানি পাঞ্জাবীটা কিনলে তোমাকে নিয়ে আমার একদিনের সময় কাটানোর প্রবল ইচ্ছে জাগবে আর সেটা তো সম্ভব নয়! তাই নিজের কস্ট আর নিজে বাড়ালাম নাহ।
তোমাকে ভার্সিটি ক্যান্টিনে যেদিন দেখি সেইদিনই ভালো লেগে যায় আমার, তোমার মিষ্টি হাসিটা আজো আমি ভুলিনি তবে সেদিন ভালোভাবে দেখতে পারিনি। আমার কল্পনার সেইদিনটাতে তোমার হাসিটা আমি প্রাণভরে দেখব আর কোন বাধা থাকবেনা তোমার হাসি দেখতে। দুপুরের খাওয়া শেষে তুমি আর আমি একটা রিক্সায় উঠব, হুট খোলা রিক্সায় মুহু মুহু বাতাসে তোমার চুল গুলি উড়বে। বিকেলের মাঝা মাঝি সময় তুমি আর আমি নির্জন রাস্তায় দুজন দুজনের হাত ধরে হেটে যাব আর তখুনি নামবে ঝুম বৃষ্টি, বিজলীর প্রকট আওয়াজে তুমি আমার হাতের মুষ্টিকে আরো চেপে ধরবে আর আমি তোমাকে অভয় দিব- কিছু হবেনা প্রিয়তা, এর রুদ্রর হাতে তোমার হাত, এই দেহটাতে প্রাণ থাক পর্যন্ত তোমাকে আগলে রাখব আমি, তোমার আলতো হাসি পরিবেশটাকে আরো মাধুর্য্যতে পুর্ণ করে তুলবে.…
সন্ধ্যার আলো এসে প্রিয়তার মুখে পড়েছে রুদ্র সেইটা খেয়াল করল কিন্তু বুঝতে দিলনা প্রিয়তাকে, মেয়েটাকে খুব সুন্দর লাগছে…
-প্রিয়তা অনেক দেরী হয়েছে তুমি বাড়ি যাও…বেঞ্চ থেকে উঠতে উঠতে রুদ্র বলল…
প্রিয়তা কি বলবে বা করবে তা বুঝে উঠ্ততে পারছেনা, কেবল চেয়ে দেখছে রুদ্র আস্তে আস্তে তার সামনের পথ ধরে চলে যাচ্ছে।

সেদিন থেকে আজ ৫ দিন হল রুদ্রর সাথে সাথে প্রিয়তার ঘুমো যেন হারিয়ে গেল, কেবল ভাবে রুদ্র আমাকে এত ভালোবাসে কেন?
৭ দিনের মাথায় রুদ্রকে ক্যাম্পাসে সজীবের সাথে পাওয়া গেল… খুব শঙ্কা নিয়ে প্রিয়তা এগিয়ে গিয়ে রুদ্রকে ডাকল-
-রুদ্র তোমার সাথে কথা ছিল… রুদ্র প্রিয়তাকে দেখে একটু অন্যমনস্ক হ-ওয়ার ট্রাই করল তবে ডাক যেহেতু ওর পড়েছে তাই ও উঠে গেল…

৭ দিন আগে যেই বেঞ্চটিতে দুজন বসে ছিল সেখানেই এখন ওরা, শুধু সময়ের পার্থক্য। এখন মধ্যদুপুর, ভেজা আকাশ আর এই সময় চাওয়া পাওয়ার ব্যাপার প্রবল হয়!
-রুদ্র আমি একজনের অপেক্ষা করছিলাম গত ৭ দিন ধরে, জানো তুমি? কোথায় ছিলে এ কদিন? তুমি যাবে যাও সাথে আমার ঘুম আর মনটাকে কেন নিয়ে গেলে?
এ কথা শুনে রুদ্র হতভম্ব… কি শুনছে ও! প্রিয়তা ৭ দিন ধরে ওর অপেক্ষা করেছিল!
-তোমার কাছে আজ আমি কিছু চাইব, দিবে রুদ্র?
-হুম বল।
-তোমার লাইফের প্রতিটা সকাল, বিকেল আর রাত্রি গুলোকে তুমি আমার সাথে ভাগাভাগি করবে রুদ্র? ঝুম বৃষ্টিতে তোমার হাতটা আমাকে ধরতে দিবে?
-রুদ্র আজ আমি তোমার কাঁধে মাথা রেখে আমি জোছনা দেখতে চাই। দিবে? রুদ্র চোখের অশ্রু আর আটকে রাখতে পারল না… -প্রিয়তা আমি আমার ভালোবাসার সব শক্তি দিয়ে বেধে রাখবো তোমায়, কোথাও হারাতে দিতে চাইনা তোমাকে
-আরে বুদ্ধু আমি তোমারি থাকবো।
-প্রিয়তা তোমার হাতটা দিবে? একটু ছুয়ে দেই তোমায়…

Labels: , , ,

Saturday, 7 March 2020

শেষ চিঠি


শেষ চিঠি
-সুহাত



বেশ বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে,এবার যেনো চৈত্রের মাঝামাঝি তেই বৃষ্টি নেমে গেলো।চোখের চশমাটা গেঞ্জির নরম কাপড় দিয়ে মুছে নিচ্ছি,পরিষ্কার চোখে আজ একটি গল্প পড়ব!! দীর্ঘ ৪ মাস পর দুই দিন হলো বই পড়ছি।আসলে বই না ঠিক,কয়েকটা চিঠি!!! হুম,তাই বলাই বরং ভালো।আমার কাচা সবুজ বয়স টা নাকি খুব রোমান্টিক,মানে মা তো তাই বলেন।আর আমিও নিমাই এর "মেম সাহেব" ছাড়া আর কিছু পড়ি না।বইটা কিনেছি ২ দিন হইল,এর মধ্যে গোটা দুএক বার পড়া শেষ!!! মা আমার তার বড় এবং ভীষণ আশা ভরসার ছেলেকে "মেম সাহেব" পড়তে দেখেই আতকে উঠে! না জানি ছেলে আমার কোন ছলনায় ডুবল,কোন ললনায় মজলো।

তবে মা দেখি প্রেম করতে আমাকে মানা করেন না।খালি বলেন,প্রেম মাংসপেশী তে হয় না,হয় হৃদপেশী তে। দুটো পেশী কে কখনো গুলিয়ে ফেলো না।

সেই বৃষ্টির দুপুর টায় মেমসাহেব আর একবার রিভিশন দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছি,যদিও আসন্ন কলিযুগ এ এতো সুন্দর বই এতো বার পড়ে আমার কোন উপকার হবে না। তবুও নাদুস নুদুস নিশ্চিত সাফল্য এর মড়কে আগলানো ১০ সন্তান একত্রে গর্ভে লালন করা মোটা মোটা গাইড গুলো বাদ দিয়ে নিমাই এর কলম কে মনে মনে আউরাতে লাগলাম।হঠাত রুদ্রমূর্তি নিয়ে মায়ের আগমন-
 -এই সব বাদ দে। পরীক্ষার পড়া পর।
 -এহ,এই বইটা তুমি পড়ছ? জানো না কিছু!এতো সুন্দর বই আমি কখনো পড়িনি।নিজে পড়নি এখন আমাকেও পড়তে দিবা না!
 মা একটু চুপ হয়ে থাকল।আমি জানি মা এই বইটি অবশ্যই পড়েছে,তাও একটু শাসিয়ে ছিলাম।ভাবলাম কস্ট পেলো নাকি মা!
 -মা,কিছু বলবা?
 -হুম।
 -তো বল।
 মায়া ভরা দুটো চোখ নিয়ে আমার দিকে মা একবার তাকালো।তারপর বলল-
 "কাউকে পছন্দ করিস? মানে তোদের সাথে পড়ে এমন কোন মেয়েকে?
 -হুম,করি।
 -নাম টা বলে ফেলো শুনি।
 -রিধিতা।
 -কেনো পছন্দ কর ওকে? মানে ওর কোন গুনটা তোমাকে মুগ্ধ করেছে?
 অনেক ভেবে চিনতে বললাম,"ও অনেক সুন্দর দেখতে"
 আম্মু আবার সেই পুরান ঘেন ঘেন শুরু করল,বলল-

প্রেম মাংসপেশী তে হয় না,হয় হৃদপেশী তে। দুটো পেশী কে কখনো গুলিয়ে ফেলো না।

ধুর,এক কথা আর কয়বার শুনব!একটা ঝারি দিবো কেবল,অমনি আম্মু ২টা চিঠি আর একটা কাগজ।অনেক পুরাতন লেখা গুলো মনে হচ্ছে।তা কম হলেও বছর ১৫ আগের তো হবেই।

-নে ধর,এইগুলা পড়।
 -আচ্ছা,লেখা পড়তে আমার দোষ নাই।কিন্তু কার লেখা তা তো বলবা??
 -আমি নিজেও জানি না! বা জানলেও বলা যাবে না!
 আমার তো মেজায অনেক গরম হল।" কে লিখছে তা বলতে কি সমস্যা?"
 -১ম চিঠি টার মানুষ টাকে আমি ই চিনি না।উনিই লিখসেন। ২য় টি আমার অফিস এর এক কর্মচারী খুব যত্ন করে গুছিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন।২টা চিঠি একি খাম এ....
 ব্যাপার টাতে ইন্টারেস্ট পাচ্ছি,দেখি কি লিখেছেন উনি।
 এইদিক এ মা চা বানাতে চলে গেছে,হাল্কা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর গরম চা! চিন্তা করলেই প্রেমবিরহের কিছু পড়তে মন চায়।
 যাই হোক,এসব ভাবতে ভাবতেই চিঠিটা পড়া শুরু করলাম। ১ম চিঠি টা দিয়েই শুরু করি...

"প্রিয় সুনিতী,
 তোমাকে ভালবাসি না,ঘৃনাও করি না।পেতেও চাই না,হারাতেও চাই না।আমি তোমার প্রেমে পরিনি,কিন্তু আমার চোখের নোনতা পানি কিছুটা পরেছে।বাদ দেই সেসব কথা।এই চিঠি তে আমার চোখের সেই বিবেক বুদ্ধিহীন জল গুলোর আত্মজীবনী লিখে যাব।
 শরতের সাতে সাদা শাড়ী তে সামনের বাসার বারান্দায় তোমায় প্রথম দেখেছিলাম।এমন না যে দেখেই চার হাত পা শিকয় তুলে ধপ করে তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। ৯০'এর অত্যাধুনিক যুগে মানুষ দেখি এভাবেই যেখানে সেখানে প্রেমে আছাড় খাচ্ছে! আমি তাদের দলগত নই।
 তবে প্রথম দেখায় খারাপ ও লাগেনি।শ্যামলা মায়াময়ী মুখের কথা বর্ণনা করে চিঠি টা আর বড় করব না।

না চাইতেই তোমার চাচা এর কর্কশ কন্ঠে তোমার নামের আস্ফালন এ ঘুম ভাংত রোজ।না,সেটা আমার মোটেই কামনীয় ছিলো না।সে এক ভয়াবহ চিতকার।গগন বিদারী টেবিলঘড়ি এর এলার্ম ও তার কাছে নিতান্তই তুচ্ছ।অতপর হৃদস্পন্দন কে দেড় গুন বাড়িয়ে লাফিয়ে উঠতাম ঘুম দিয়ে।ঠোট জোড়া থেকে অজান্তেই তোমার জন্য দুই একটা গালাগাল বেড়িয়ে আসত।এভাবেই অপরিচিত নামটা আমার অতিপরিচিত হয়ে উঠল।সুনিতী,সুনিতী দাস। প্রায়ই দেখতাম কাপড় মেলতে ছাদ এ আসতে,বারান্দার গ্রিল পরিষ্কার করতে,পাড়ার দোকান থেকে অল্প পয়সার কিছু জিনিস পত্র ও কিনতে।এভাবেই একদিন আমার আর তোমার দুই জোড়া চোখের সাক্ষাত হয়েই গেলো। না,আমি সুন্দর এর পুজারী নই,তাই তোমার সৌন্দর্য আমি খুব বুঝিনি।তবে ওইদিন তোমার দুনিয়াটা কিছুটা বুঝেছিলাম। মনে পড়ে? ওইদিন তুমি আমায় বলেছিলে,তুমি আশ্রিতা,তুমি পিতা হারানো এক এতিম,তুমি সম্বলহীনা এক মায়ের শেষ সম্বল।তারপর আমার তোমার দেখা হতো প্রায়ই,শুধু কাকতালীয় থেকে ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃত হতে থাকল।তোমাকে নামতে দেখেই আমিও নেমে যেতাম আনমনেই। কিছু কথা বলে রাখা দরকার তো,নয়তো তুমি বুঝবে কি করে? আমার আব্বুর অনেক টাকা।অনেক না হলেও আমাদের নিজেদের বাড়ি আছে,ছোট একটা গাড়ি ও আছে।মোট কথা অর্থাভাব নেই একেবারেই।বাবা আমার সরকারি বড় চাকরি করেন,সামাজিক অবস্থান ও তাই বেশ উচ্চ।এমন পরিবারের ছেলে আমি।বুঝলে,কত ভালো পরিবার? আমি উচ্চ তুমি নীচ,আমার জামা দামি তোমার টা ফুটো,আমার রক্ত মুসলিম তোমার রক্ত হিন্দু।আমি নিলয়,তুমি সুনীতি।" হটাত মা চায়ের কাপ টা ঠুং করে সামনে রাখল।মনোযোগ হারিয়ে গেলো।মা কে বললাম, লেখাটা খারাপ না। -পুরাটা পড়েছিস? -না। -আগে পড়া শেষ কর। চায়ে চুমুক দিতে দিতে আবার চিঠিটা পড়া শুরু করলাম। "আমি সবে একুশে পা দিয়েছি।জীবন ঘড়ি টা কুড়িবার ঘুরেছে।মাথার উপরে দেখি বড় বড় ঝাড়বাতি গুলোও ঘুরছে।চারিদিকে সব দামি দামি বস্তু বাস্তুতে বাতাসের অক্সিজেন টাকেই খুব সস্তা লাগছিল তখন।সবাই আমাকে কতো উপহার দিল।আমার সদ্য যৌবন ঘেসা মনটাও কেমন যেন বেশ আনন্দে ভড়ে যাচ্ছিল সেদিন।

না,সেদিন হয়ত একবারের জন্যেও তোমাকে মনে পড়ত না।যদি না তোমার চাচার পশুত্বটা মনুষ্যত্বটাকে আড়াল না করত।ধুপ ধাপ করে কৈশোর যৌবনের মাঝে দাঁড়ানো একটি মেয়েকে এভাবে মাড় খেতে আমি দেখি নি,কখনো দেখিনি।খুব কষ্ট হয়েছিল সেদিন।আমার উতলতা দেখে বাবা বললেন,আরে এই পাশের বিল্ডিং টাতে কতোগুলা মূর্খ আসছে।বস্তির মতো মারামারি করে। না,আমিও সেদিন তোমার জন্য চোখের পানি ফেলিনি।বরং একদমে মোমবাতি টাকে নিভিয়ে দিয়ে উতসব করেছি নতুন আধুনিক মনুষ্য কে মাথায় তুলে।তবে হ্যা,তোমার প্রতি আমার দয়া ছিল।এটার কোন কমতি ছিল না। এভাবে সব যাচ্ছিল ভালই।এই এলাকাতে থাকা স্বরুপ আমার স্থানীয় কিছু বন্ধুও হয়েছে।পরিচিত সমবয়সী ছেলে বলা চলে,ঠিক বন্ধু নয়।এর মধ্যে কিরণ নামের একটা ছেলে ছিল।ওকে তুমিই আমার থেকে ভালো চেনো।কেন চেন তা লেখার সাধ্যি আমার কলম এর নেই।যাই হোক,ওদের সাথে আমার ও হাল্কা হাল্কা কথা বার্তা হতো। এরপর হঠাত সেই দিন।কোন দিন বুঝেছো তো? ওই যে বৃষ্টি হচ্ছিল।আমি আমার চার তলার সুউচ্চ ভবনে বসে তোমাকে দেখছিলাম।জলে কাপড়ে এক হয়ে যাওয়া তোমার শরীরের দিকে আমি একবারো তাকাইনি,বিশ্বাস করো।আমি শুধু তোমার লাল চুড়ি গুলোর দিকেই তাকিয়ে ছিলাম।খুব সুন্দর ছিল সস্তাদর এর চুড়িগুলো। কিন্তু আমি তাকাইনি তাতে কি?জগতে হাজার হাজার কুকুরে চোখ বড় বড় করে তোমার দিকে তাকিয়ে ছিলো।কেন জানি মন চাচ্ছিল ওদের সবার চোখে আগুন দিয়ে দেই। হঠাত সেই কিরণ এর আগমন,সাথে সেই অসহনীয় আচরণ। মাথা ঠিক রাখতে না পেড়ে হন হন করে নিচে চলে গেলাম।অজান্তেই কিরণ এর সাথে ঝগড়া বাধিয়ে দিয়েছিলাম সেদিন।একপর্যায় এ হাতাহাতি পর্যন্ত চলে গেল ব্যাপারটা।এলাকার সবাই দেখল।শুধু দেখল। কিরণ চলে গেল,আর বলে গেল,"ঐ মেয়েকে আমি খবরের পাতার শিরোনাম করে দেব!"। তোমার সাথে আমার শেষ কথা হয়েছিল ঐদিন ই।বলেছিলে,"এগুলো করেন আবেগে,ঐ দেখেন,কত মানুষ পুরা ঘটনা দেখেছে। ওদের মতো হতে শিখুন। চোখ মুছতে মুছতে সেইদিন তুমি চলে গিয়েছিলে।শুধু কিরনের তালুতে পিস্ট সাদা ওড়না আর তোমার হাতের ৩ টা লাল চুড়ি পরেছিল কনক্রিট এর ঐ রাস্তায়।আমার কনক্রিটের এই মনেও অনেকগুলো কথা সেদিন জমে গিয়েছিল;যা তোমার আর শুনবার সময় হয় নি। সেদিন থেকেই আমার মনে,আমার চোখে,আমার ভাবনায় তোমাকে নিয়ে বেশ একটা আতংক ছিলো।না জানি ঐ জানোয়ার টা কবে কি করে বসে। ২৩শে মার্চ,১৯৮৯। সকাল ৫:৪৫(আনুমানিক) ঘুম থেকে চোখ মুছতে মুছতে উঠলাম।কি ব্যাপার? তোমার চাচার গগন বিদারী চিতকার টা নেই কেন? "সুনিতী,সুনিতী উঠ হারামী" কথাটা নেই কেন আজ? তোমাদের বাড়ির সামনের রাস্তাটায় দেখি বেশ ভিড় জমেছে।কোন রকম একটা জামা গায়ে দিয়ে দিলাম দৌড়। তারপর এ যা দেখলাম,যা শুনলাম তা যেন আমার মনের মলাট টাকে চিরচির করে ছিড়ে দিল।না,সুনিতী বেচে আছে।ও মরেনি।কিরন ওকে মারেনি।ওর হৃদস্পন্দন চলছে।থেকে হাত পা নড়ছে।শুধু আমার সুনিতীর দেহের নিম্নাংশ টা রকে ভিজে আছে।আমার হাত পা গুলো হঠাত বোবা হয়ে গিয়েছিল।আমার মস্তিষ্ক নিথর হয়ে গিয়েছিল।আমার দুনিয়াটা অন্ধ হয়ে আসছিল।কিছু বুঝে উঠবার আগেই বুঝলাম তোমাকে তোমার চাচা তাড়াতাড়ি হাসপাতাল এ নিয়ে যাচ্ছে।না না,তোমাকে ভালবেসে না,তোমার দেয়া লাল রক্তের লজ্জা ঢাকতে।না না,তোমার লজ্জা নয়,তোমার চাচার লজ্জার কথা বলছি। আমিও গেলাম তাদের সাথে,লজ্জা ঢাকতে হবে যে।সমাজের লজ্জা,শহরের লজ্জা,দেশের লজ্জা.... রক্তমাখা হাত আর আমার বোবা হাতজোড়ার প্রথম ও একমাত্র মিলন হয়ে গেল এই লজ্জা ঢাকবার ছলেই।আমি বুঝলাম,আমি অসহায়। কোন রকম এর সরকারি হাসপাতাল এ তোমাকে নিয়ে ডাক্তার পর্যন্ত পৌছে দিয়েই তোমার চাচা পরিবার সমেত এলাকা ছেড়ে চলে গেলেন।রেখে গেলেন তার বিদীর্ণ চিতকারে তোমার নামটা শুনবার প্রিয় বিরক্তিকর স্মৃতি গুলো। ঘন্টা দুয়েক পরে ডাক্তার যখন একটু সুযোগ পেলেন,আমি হুট করে বলে বসলাম এই পেসেন্ট এর কি অবস্তা? "খুবি খারাপ।উন্নত চিকিৎসা দিলে বাচলেও বাচতে পারে।" আমি জানি আমি অসহায়।আমার নিজের কোন অর্থ নেই তোমাকে বাচানোর।সামর্থ্য নেই তা জোগাড় করে তোমাকে জাগাতে।সাহস নেই জড়িয়ে ধরে তোমাকে বলতে,সুনিতী,তুমি আমার। ধীরে ধীরে ক্ষীন হয়ে আসছে দিনের আলো।দ্রুত কমে আসছে তোমার ফেরার সম্ভাবনা। রাত ৮:৩০ এর দিকে ডাক্তার আমাকে ডাকলেন।আমার মনটা হঠাত লাফিয়ে উঠল।মনে হচ্ছিল ডাক্তার বলবেন,উনি আপনাকে খুজছেন।আবার তোমাকে চিরতরে হারানোর ভয় ও ছিল আমার চোখ জুড়ে।ভাবতে ভাবতেই দৌড়ে চলে গেলাম ডাক্তার এর কাছে। ডাক্তার বলল,"শুনুন,উনার আর বাচবার তেমন কোন সুযোগ নেই।যে কোন সময়েই একটা দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।আপনি যদি পারেন লাশ নেবার একটা ব্যাবস্তা করেন।রেপড কেস,যত তাড়াতাড়ি নিয়ে যাবেন ততই ভালো"। ডাক্তার চলে গেল এ কথা বলেই।স্বপ্ন গুলো সাথে সাথে ভিজে গেল অশ্রুতে। নিথর দেহে তোমার মুখটার কথা মনের দেয়ালে মিশিয়ে দিতে দিতে বাড়ি ফিরলাম। ওমা,বাসায় ফিরে দেখি লজ্জায় আমার বাবার কচু কাটার মত অবস্থা।সে কি লজ্জা সে কি লজ্জা!!! "নিলয়,তুমি এরকম কাজ করলে কিভাবে।সবাই কি বলল জানো?তুমি নাকি ওই মেয়েটাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছো? এরপর পুলিশি ঝামেলা আছে,রেপ কেস এইটা।বুঝো কিছু? তুমি আমার ছেলে,এইসব থার্ড ক্লাস মেয়েদের এক জীবনে ২-৪ বার এমন হয়েই থাকে।কিন্তু একবার যদি এই রেপ ইস্যু তে তোমার নাম কোথাও আসে? তখন তুমি কি করবা??" আরো জানি কি কি বলছিল বাবা।আমার কান জোড়া তা শুনবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিল। আমি নিজের রুম এ চলে আসলাম।একটা কাগজ নিলাম,আর একটা ইকোনো ডি এক্স বল পেন।তারপর আবেগ গুলো কে তোমার বোধগম্যতার আওতায় আনলাম।জানি তুমি এই চিঠিটা পড়তে পাড়বে না।তবুও লিখে তো দিলাম,"আমার আকাশটা শুধুই তোমার।আমার হৃদয় এর মালিক শুধুই আমি।আমার এই হৃদয় এর প্রতিটা কনা শুধুই তোমার।আমার প্রতিটা রক্তকোষ এ তুমি মিশে গেছ।হয়ত আমি আজ নিশ্চিত,এগুলো কোন ধর্ষিত যুবতীর প্রতি আমার দয়া নয়।এগুলো কোন অসহায় এর প্রতি আমার আফসোস নয়।এগুলো তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা। হ্যা সুনিতী,যদি কখনো এই চিঠিটা তোমার পড়ার ভাগ্য হয়,তবে জেনে রেখ,আমি তোমাকে ভালোবাসি।খুব বেশী ভালোবাসি।আমি তোমার জন্য পরকালে অপেক্ষা করব,ওই যে,তোমার ছেড়া সাদা ওড়না আর তিনটা লাল চুড়ি,ওগুলো আমি হাতে নিয়ে থাকব যেন তুমি আমার থেঁতলে যাওয়া চেহারাটা চিনতে পারো।

শুভকামনা।
 নিলয়।"
 একটা স্বপ্নের মধ্যে যাচ্ছি মনে হলো।হতচকিয়ে উঠলাম।চায়ের কাপের চা টা হিম শীতল হয়ে গেছে।বাইরের বৃষ্টি টা বেড়েছে।মা আমার বাইরে গেছেন কোন ব্যাংক এর টাকা তুলতে।ছাতা মাথায় অনেক গুলো লোক দৌড় দিচ্ছে বাড়ির দিকে।আচ্ছা,ভালো কথা! আর একটা চিঠি তো বাকি! তাড়াতাড়ি চিঠিটা বের করে পড়তে বসলাম।আগ্রহ যেন আমার আবেগকে উপচিয়ে ফেলছে।
 "প্রিয় পাঠক,
 ১ম চিঠি টা আগে পড়ে এই চিঠিতে আসবেন।
 নিলয় সেদিন রাতে আর দরজা খুলে নি।পরদিন নিলয় কে পাওয়া যায়।তাদের চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়েছিলো সে।হয়ত আত্মসম্মান এর তাগিদে,হয়ত বিবেকের তাড়নায়,হয়ত উদ্বায়ী আবেগে,হয়ত নগ্ন নিঠুর বর্তমান কে মেনে নিতে না পেড়ে সে আত্মহনন করে ছিল।
 আর সুনিতী?
 মানবাধিকার কর্মী দের নজরে আসে সুনিতী।২৪ তারিখে তাকে উন্নত ট্রিটমেন্ট এর জন্য ভারত এ নিয়ে যাওয়া হয়।দীর্ঘ ১ ১/২ মাসের চেষ্টায় মোটামুটি সুস্থ হয়ে ওঠে সে।
 দেশে ফিরলে নিলয় এর মা চিঠিটা সুনিতীর কাছে পৌছে দেয়,আরো দিয়েছিল সেই ছেড়া ওড়না আর তিনটা লাল চুড়ি।এই জিনিস গুলো সাথে নিয়েই যে মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে মরে ছিল নিলয়।
 আজ ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০১৪।
 সুনিতী মানবাধিকার কর্মিদের সহয়তায় উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এ ভর্তি হন ইংরেজি বিভাগ এ।তিনি এখন দেশের একটি সুনাম ধন্য company তে CEO পদে নিযুক্ত।তিনি খুব গম্ভীর একজন মহিলা। চল্লিশোর্ধ বয়সের এই নারী এখনো বিয়ে করেন নি। ১ম চিঠিটা তার চিঠিটির ফোটকপি।নিলয় এর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া।হয়ত সুনিতী দাস ও অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে পরকালের,নিলয় তো তাকে কথা দিয়েছে,ঐ লাল চুড়ি,সাদা ওড়না নিয়ে অপেক্ষায় থাকবে।
 হয়ত সুনিতী প্রতি রাতেই ঘুম ঘুম চোখে নির্ঘুম ঠোটে বলে ওঠে,"আমি আসব নিলয়,আর মাত্র কটা দিন।"

চিঠি টা পড়া শেষ।কেমন যেন নিশ্বাস গুলো একটু দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে।বৃষ্টি থেমে এসেছে।আকাশ পরিষ্কার ও হচ্ছে ধীরে ধীরে।আমার অনেক অনুভুতি,ধারনে,চিন্তাধারাও পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।
 মনে পড়ছে মা এর সেই কথা গুলো,
 "ভালোবাসা মাংসপেশি তে হয় না,ভালোবাসা হয় হৃদপেশী তে"

নাহ,ভালোবাসার সংগা টা নতুন করে বুঝতে হবে।আর রিধিতা কে বলতে হবে,আমি তোমায় ভালোবাসি না।নিলয় এর মতো ভালোবাসা ওলিতে গলিতে জন্মায় না।

বৃষ্টি থেমে গেছে,নতুন বিবেক গুলো আবেগ গুলোকে ধরতে শিখেছে।
 ভালো থেকো নিলয়,ভালো থেকো সুনিতী।

Labels: