মানুষটা এবং আমি
মানুষটা এবং আমি
- নাজিয়া ইসলাম
রেল লাইনের ঠিক মাঝখানটায় দাঁড়িয়ে আছি, ট্রেনের অপেক্ষায়। অনেক ভেবে চিন্তে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আর বাঁচবোনা। সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিয়েছি পাক্কা ছয় ঘন্টা। ছয়ঘন্টায় অনেক কিছু ভেবেছি, যেমন, আমি মরে গেলে কারো কোন লোকসান হবেনা, অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ছি পড়া শেষ হতে আরো অনেক দেরি, আমার বড় ভাই আছে, ফ্যামিলির অবস্থা ভালো, কাজেই আমার উপর এমন কোন চাপ নেই যে আমার উপার্জন করে কাওকে খাওয়াতে হবে। বাবা মা কিছুদিন দুঃখে কান্নাকাটি করবে কয়েকদিন পর ভুলে যাবে। সবচেয়ে সহজে যে শোক ভোলা যায় তা হল মৃত্যু শোক। কথাটা নিয়ে অনেক ভেবেছি আর বুঝতে পেরেছি যে একদম খাঁটি কথা, আসলেই তো একটা মানুষ বেঁচে নেই এমন না সে চোখের সামনে ঘুরঘুর করছে তো তার অস্তিত্ব ভুলে যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক। আত্বীয় স্বজনরা একবেলা মেকী কাঁদবেন তাদের নিয়ে আমার একটুও মাথা ব্যাথা নেই। বাকি রইলো আমার কিছু স্বপ্ন, ধুর কিসের স্বপ্ন, যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম সেই যখন পর হয়ে গেল তখন তাকে নিয়ে দেখা স্বপ্নের আমি খ্যাতা বালিশ সব পুড়ি।
একি! হঠাৎ করেই রেল লাইনটা কাঁপা শুরু করল, তার মানে নিশ্চিত ট্রেন আসছে, দূর থেকে চলমান আলো দেখা যাচ্ছে। আমার খুব পানির পিপাসা পাচ্ছে, বড় বড় নিশ্বাস নিচ্ছি আর বারবার ঢোক গিলছি। ট্রেন ঝমঝমিয়ে সামনে এগিয়ে আসছে। এভাবে পানির তৃষ্ণা নিয়ে আত্মহত্যা করাটা কি ঠিক হবে ভাবতেই লাইন থেকে দ্রুত সড়ে দাড়ালাম, আমার পাশ দিয়ে বিকট শব্দে ট্রেন টা ছুটে চলছে। ধুর আমি এত ভীতু কেন! পরের ট্রেন যে কখন কে জানে!
রেল কর্তৃপক্ষের শ্রাদ্ধ করতে করতে হাঁটছি কোথাও প্লাটফর্মটা একটু নিচু কিনা সে খোঁজে, সব উল্লুকের দল এত ঊচু করে প্লাটফর্ম বানানোর মানে কি আমরা মানুষ নাকি ক্যাঙ্গারু! আর বানালিই যখন তখন সাথে কয়েকটা মই তো রাখবি নাকি! মই ছাড়া এখানে উঠার আর ঊপায় নেই। এইমুহুর্তে কেউ একজন হাত এগিয়ে দিল, “উঠে আসুন”। আমি কপাল কুচকে উপরে তাকালাম মানুষটার দিকে, ফর্মাল শার্ট, প্যান্ট, গলায় ঢিলে করে বাধা টাই ঝুলছে, বয়স সাতাশ আটাশ হবে। ভাবলাম একটু পরে তো মারাই যাব এখন অপরিচিত কারো হাত ধরলেই কি আর না ধরলেই কি! আর কতক্ষণই বা এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা যায়! হাতটা ধরে উঠে এলাম।
-থ্যাঙ্কস!
-ইউ ওয়েলকাম।
-এবার হাতটা ছাড়ুন!
-ওহ সরি।
বেঞ্চগুলোর দিকে এগিয়ে গেলাম, কোমড়টা ব্যাথা হয়ে গেছে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে। স্টেশনের বেঞ্চগুলো সবসময় পরিস্কার থাকে কারন এরা সবসময় ইউজের নিচে থাকে। ধপ করে বসে পরলাম একটায়। স্টেশন ফাঁকা ফাঁকা লোকজন বেশি নেই এই রাত সাড়ে বারটায় লোকজন বেশি থাকারও কথা না। কিছু লোক বসে ঝিমুচ্ছে কিছু নিচে শুয়ে আছে এরা টোকাই হবে হয়তো, কয়েকজন হাটাহাটি করছে। আর মানুষটা বারবার ঘড়ি দেখছে। সত্যি খুব পানির পিপাসা পেয়েছে। আমার কাছে একটা টাকাও নেই পার্স রাগে গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছি। মানুষটাকে ডেকে বললাম, “এই যে শুনছেন? একটু পানি খাওয়াতে পারবেন?” দোকানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখে বললাম, “পেলে ফ্রীজেরটা আনবেন প্লীজ”।
মানুষটা বোতল এগিয়ে দিয়ে বসতে বসতে বলল,
-সুইসাইড?
-হ্যা।
-তবে সাহসে কুলাচ্ছে না?
-সাহসে কুলাবেনা কেন! মানে কি! তো এ পর্যন্ত কিভাবে আসলাম!
-আমি খেয়াল করছিলাম আপনাকে, দেখলাম ট্রেন এগিয়ে আসার সাথে সাথেই ধরফরিয়ে লাইন থেকে সরে এলেন!
-খুব পানির তৃষ্ণা পেয়েছিল, আর পানির তৃষ্ণা নিয়ে এভাবে মরা ঠিক না।
-আত্মহত্যা করাও ঠিক না। যারা আত্মহত্যা করে তারা কখনো বেহেশতে যায়না।
-দেখুন আমাকে এখন হাদীস শোনাবেননা। অন্য কাউকে গিয়ে শোনান।
-অন্য কাকে শোনাবো আর কেউতো মরার জন্য স্টেশনে দৌড় ঝাঁপ শুরু করেনি। আর আমি আপনাকে পানি খাইয়ে আপনার উপর একটা দয়াও করেছি এখন আর কিছু করার নেই আপনাকেই আমার কথা শুনতে হবে, আর হ্যাঁ হাত ধরে আপনাকে প্লাটফর্মেও উঠিয়েছি।
-ওহ তাই! এই দশ টাকার পানির বোতলের জন্য আমার এখন আপনার প্যানপ্যানানি শুনতে হবে! আমি এখনি আপনার টাকা দিয়ে দিচ্ছি আর উপরে কি আমি উঠাতে বলেছিলাম? একক্ষুনি হাত ধরে আমাকে নিচে নামিয়ে দিন, পরেরবার আমি একা উঠবো।
-টাকা কিভাবে দেবেন! আপনার সাথে তো ব্যাগ পার্স কিছুই দেখছিনা। নাকি অন্য কোথাও রেখেছেন, মেয়েদের অবশ্য আবার টাকা রাখার জায়গার অভাব নেই। আর পানির বোতল এটা পনের টাকা, দশটাকার যুগ অনেক আগেই গেছে ম্যাডাম।
মানুষটার দিকে একটা অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে আমি পাশের বেঞ্চে গিয়ে বসলাম।
-কি ম্যাডাম টাকাটা দিলেননা!
-নেই, দেখতেই তো পাচ্ছেন!
-তাহলে যে পর্যন্ত আমার ট্রেন না আসে সে পর্যন্ত আমার প্যানপ্যানানি শুনতে হবে।
-আচ্ছা মুশকিলে পরলাম তো! এই শোনেন আপনাকে যদি বোতলে পানি ভরে দিই তাহলে কি আপনি দয়া করে স্টপ যাবেন?
-পানি দিয়ে আমি কি করবো? আমার তো মরতে এসে গলা শুকায়নি।
-আমি জানি না পানি দিয়ে কি করবেন। আমি আপনার পানি নিয়েছি এখন পানি দিয়ে তা শোধ করবো। আর আপনি একটা কথাও বলবেননা।
হন্তদন্ত হয়ে আমি পানি খুজছি, স্টেশন ছাউনির বাইরেই একটা টিউবওয়েল পেয়ে গেলাম। পানি ভরে এনে বোতল তার হতে দিলাম। আমার আঙ্গুলটা মুখের কাছে নিয়ে বুঝিয়ে দিলাম, এবার একদম চুপ!
তাকে চুপ করিয়ে আমি পূর্বস্থানে ফিরে এসে বসলাম। তখনই উশানের কথা মনে পরল। বজ্জাতটা কিভাবে পারলো আমার সাথে এরকম করতে! কত ভালোবেসেছিলাম ছেলেটাকে অথচ সব মিথ্যে করে দিয়ে সে আরেকজনের সাথে প্রেম করছে, আমার সাথে ডাবল গেম খেলে যাচ্ছে! ভাগ্যিস ফুচকার অর্ডার দিতে যাবার সময় টেবিলের উপর রাখা ফোনটা নিতে ভুলে গিয়েছিন। যাবার সাথে সাথে টুট টুট শব্দে ম্যাসেজ বেজে উঠলো, সেটা পড়ে ইনবক্সে ঢুকতেই সব সত্য বেরিয়ে এল। সে মুহুর্তে মনে হচ্ছিল মশলা দিয়ে মেখে খাবিশটাকে ওভেনে ঢুকিয়ে ফ্রাই করে ফেলি সাথে ওই পেত্নীটাকেও, যে আমার উশানকে কেড়ে নিল। অবশ্য মেয়েটার কি দোষ মেয়েটাও হয়ত জানেনা খাবিশটা কি করছে। মেয়েটাকে ফোন করে সব জানানো উচিত ছিল, কিন্তু আসার সময় উশান এমন নাটক শুরু করল যে সব ভুলে গেলাম। “মাফ করে দাও এমন আর হবেনা”। মাফ করে দিব! অতোই সোজা! ভালবাসি বলে এতোটাই সস্তা হয়ে গেছি! কোন মাফ নেই, তোর মত মেয়েচাটা স্বভাবের ছেলেদের কোন মাফ নেই।
-কি ব্যাপার একা একা কি বিড়বিড় করছেন?
-আমি কি বিড়বিড় করছি তাতে আপনার কি!
-আমি তো একা চুপচাপই বসে ছিলাম, দেখলাম আপনি একাই কথা বলছেন তাই ভাবলাম দুজনে মিলে কথা বলি আমারও কথা বলার মানুষ হল আপনারও একজন শোনার মানুষ হল।
-আপনি যে কথা বেশি বলেন জানেন?
-আপনি আমার থেকেও বেশি বলেন, এইযে একটু আগে একা একাই কথা বলছিলেন। আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে দুনিয়ার সব মানুষের উপর আপনি বিরক্ত। কি হয়েছে আপনার বলা যাবে?
-না।
-নামটা বলা যাবে?
-না।
-আরে ম্যাডাম কিছু তো বলা যাবে নাকি!
-আমার নাম জেনে আপনি কি করবেন?!
-কি করবো মানে! আপনি এখানে আসছেন সুইসাইড করতে, পারলেননা যে লোকজ়ন এটা দেখলনা। উল্টা তারা আপনাকে আমার সাথে দেখল আমি আপনাকে পানি কিনে খাওয়ালাম, আপনি চেঁচিয়ে আমার সাথে ঝগড়া করলেন। এখন আপনি যদি সুইসাইড করেন পুলিশ কেস হবে মাস্ট। লোকজন তো তখন আমাকে ধরবে, বলবে আমার সাথে ক্যাঁচাল বাধিয়েই ঝাঁপ দিয়েছেন। ফাঁসলাম তো আমি তাইনা! এখন এই ফাঁস থেকে বের হবার জন্য আপনার কিছু ইনফরমেশন তো আমার জানা থাকা দরকার নাকি! এখন নামটা বলে আমাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুন প্লিজ।
-অনন্যা
-আল হামদুলিল্লাহ। এবার কি হয়েছে বলেন তো দেখি, এই ঝাপাঝাপির কারন কি?
-বজ্জাতটার জন্য।
-কোন বজ্জাতটার জন্য!
-আপনি চিনবেননা। ভালোবাসতাম ওকে আমি।
-বাসতাম, তারমানে এখন আর বাসেননা।
-না! কত্ত বড় সাহস খবিশটা আমার সাথে ডাবল গেম খেলে! কত ভালবাসছিলাম আর ও কি করল!
-হা হা হা হাসালেন ম্যাডাম। এইদিনে কেউ এই সামান্য কারণে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেয় নাকি! বরং ট্রেনে আরেকজনের কাঁধে মাথা রেখে ঘুরতে যায়। হা হা হা…
-হাসবেননা। আপনারা ছেলেরা কখনোই বুঝবেননা মেয়েদের কষ্ট, তার ভালোবাসা হারানোর কষ্ট।
-তাহলে এই ছেলের জন্যই এখন কেন কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিচ্ছেন। আপনি না থাকলে ওর কি কিছু হবে! সে তখন আরেকটা জুটিয়ে তার সাথে ডাবল গেম খেলবে। অথচ আপনি কত কিছু হারাবেন খেয়াল করেছেন? তার থেকে এককাজ করেন খবিশটাকে একটা শিক্ষা দেন, তাও যদি না পারেন তাহলে অন্তত নিজের মনের ঝালটা মেটান। যেমন আমি মেটাচ্ছি।
-মানে?
-মানে, এখানে ট্রেনের অপেক্ষায় আছি, বন্ধুরা মিলে কক্সবাজার যাচ্ছি, পার্টি করতে, পার্টির কারণ আমি নব নব ছ্যাঁকা খেয়েছি, তাও আবার যে সে ছ্যাঁকা না পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া ছ্যাঁকা। সাত বছর প্রেম করার পর আমার প্রেমিকা আমারই বন্ধুর সাথে পালিয়ে বিয়ে করেছে। হাস্যকর না ঘটনাটা! ভাবলে সত্যি হাসি পায়, কিন্তু কষ্টও পেয়েছি অনেক। এখন এই কষ্ট যদি আমি মনের ভিতরে পুষিয়ে লালন পালন শুরু করি তাহলে তো সে মনের সুখে বাড়তেই থাকবে তাইনা! তাই বন্ধুদের বললাম চল ঘুরে আসি আর ওরা তো চান্সেই থাকে।
আমি টিকেট কয়টা কেটেছি জানেন? তিনটা। একটা আমার, একটা আমার প্রাক্তন প্রেমিকার, আরেকটা তার হাজবেন্ড মানে আমার বন্ধুর জন্য। আরে সব বন্ধুরা মিলে যাচ্ছি ওকে কিভাবে না বলে যাই। অফিস থেকে বের হয়ে ফোন দিলাম, বললাম চল ঘুরে আসি সব বন্ধুরা মিলে যাচ্ছি, সাথে মীরাকেও নিতে বললাম, নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে হানিমুনটাও হয়ে যাবে, টিকেট নয় আমিই কেটে দিলাম। বন্ধু আমার শুকনো মুখে বলল, দেখি। আমি জানি ওরা আসবেনা, তবু মনের ঝাল মেটানোর জন্য তাদের ফোন দেয়া, তিনটা টিকেট কাটা।
একটানা কথা গুলো বলে নিচের দিকে তাকালো সে আমি তার মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।
-এক কাজ করেননা কেন, আমার কাছে তো এক্সট্রা টিকেট আছেই, আপনি চলুন আমাদের সাথে। আমার দু তিন ফ্রেন্ড তাদের ওয়াফ নিয়েই আসছে তারাও আমাদের ক্লাসমেটই ছিল, আপনার সমস্যা হবার কথা না। তাছাড়া এভাবে দেখবেন শুধু কষ্টই পাচ্ছেন। আর আশা করি এতক্ষনে ঝাঁপ দেয়ার প্ল্যানটা বাদ দিয়েছেন, নাকি?!
-আপনি আসলেই বেশি কথা বলেন! আপনার ফোনটা দেয়া যাবে? খাবিশটাকে ফোন করবো।
-শিওর।
লম্বা একটা দম নিয়ে ফোন দিচ্ছি খাবিশটাকে,
-হ্যালো
-অনন্যা
-হ্যা কোথায় তুমি? আমি কতবার ফোন দিয়ে যাচ্ছি।
- আমি স্টেশনে আত্মহত্যা করতে আসছি
-এরকম পাগলামি করেনা জান, আমি তো মাফ চাইসি এইরকম ভুল আর হবেনা
-অ্যাই চুপ! আমাকে জান টান ডাকবিনা সাবধান! আমি তোর কিছুই লাগিনা, না জান, না কলিজা না ফ্যাপড়া শালা ইতর খাবিশ বদমাইশ। আই তুই এক্ষুণি কনফারেন্সে ওই ডাইনী টারে ফোন দিবি, কি যেন নাম ওহ হুম প্রিতী, তুই এক্ষনি তোর পেত্নী প্রিতী জ্বীনটারে ফোন দে আমি কথা বলবো আর তুই সব সত্য সত্য বলবি ওরে। এখন যদি ফোন না দিস তো এই যে পনের মিনিটের মধ্যে ট্রেন আসতেসে এমন ঝাঁপ দিব আমি যে মরবি তুই শালা। ফোন দে!
এখন খুব শান্তি শান্তি লাগছে অনেক শান্তি, মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ লাফাই। মানুষটা দেখি মিটিমিটি হাসছে,
-হাসির কি হল! কমেডি চলছে এখানে?!
-যাবেন কক্সবাজার?
-ওহ! এতক্ষনে খেয়াল হল বাসায় নিশ্চই কান্নাকাটি শুরু হয়ে গেছে। আমাকে একটা ট্যাক্সি ঠিক করে দিতে পারেন প্লিজ?
-সরি আমি পারবোনা, উপকারও করবো আবার ঝাড়িও খাবো!
-থাক পারতে হবেনা। আমি নিজেই পারবো। আসি বাই!
-আরে শোনেন তো! বাসায় কিন্তু কান্নাকাটি এমনিতেও শুরু হয়ে গেছে, ভাবুন কাল কক্সবাজার থেকে হঠাত ফোন দিলে তারা কতটা সারপ্রাইজড হয়ে যাবে, আবার তা না করে যদি দু তিনদিন পরে এসে সামনে হাজির হন তাহলে তারা কতটা শক খাবে ভাবেন, শকে পাথর হয়ে যাবার মত অবস্থা। ব্যাপারটা কিন্তু মজার হবে!
-আপনার মাথায় কোন সমস্যা? আপনার মতলব কি বলুন তো!
-মতলব আবার কি হবে! দুজন একই দুঃখে দুঃখি তাই ভাবলাম…
-কি ভাবলেন? একটু লাইন মারি এই তো!
-এই রাতে একা যাওয়াটাও কিন্তু ঠিক হবেনা। ম্যাডাম ট্রেন চলে আসছে, এই ট্রেন বেশিক্ষণ দাড়াবেনা।
-আমি বাড়ি যাবো।
-ওকে ম্যাডাম অ্যজ ইউর উইশ। বাই দা ওয়ে নামটাই তো বলা হয়নি, আমি অর্ণব। আপনার নামের সাথে মিল আছে প্রথম দুই অক্ষর। যাই যাই ভালো থাকবেন।
স্টেশনের বাইরে এসে গা ছমছম করছে, ট্রেনের হুইসেলে আত্মাটা একদফা কেঁপে উঠল। ট্রেনটা ছেড়ে যাচ্ছে। আমি দৌড়াচ্ছি এত রাতে আমি একা বাড়ি ফিরতে পারবোনা। অর্ণবকে দেখতে পাচ্ছি ট্রেনের দরজাতেই দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দৌড়াতে দেখে ঝুকে হাত এগিয়ে দিল। এতো দেখছি দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে সিন চলছে! আমিও হাত বাড়িয়ে দিলাম, এভাবে না গেলে আর যাওয়া হবেনা।
Labels: Love, Romane, Short Stories, ছোটগল্প


0 Comments:
Post a Comment
Subscribe to Post Comments [Atom]
<< Home